বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অরাজকতা, প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও গবেষণা পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
দৈনিক নয়া দিগন্তে এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিনই চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের অফিস আদেশ জারি হয়।
বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ব্রির বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানে আবারো স্বাভাবিক গবেষণা পরিবেশ ফিরে আসবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-৩ অধিশাখা থেকে ২০ মে জারি করা আদেশে বলা হয়, মহাপরিচালক পদায়নকে কেন্দ্র করে রোববার (৩ মে) ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিতে সংঘটিত ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে করণীয়ও নির্ধারণ করতে হবে।
এর আগে, মহাপরিচালক পদকে কেন্দ্র করে ব্রিতে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অবস্থান, কক্ষে তালা ঝুলানো ও গবেষণা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। সোমবার (৪ মে) ড. আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তার দায়িত্ব পরিবর্তন করে নতুন অফিস আদেশ জারি করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
ব্রির একাধিক বিজ্ঞানী বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা গেছে যে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে।
তারা আশা করছেন, শুধু সাম্প্রতিক অরাজকতা নয়, বরং নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত পুরোনো অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হবে।
কৃষি গবেষণা খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রি’র মতো প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি দেশের কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার জন্যও সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর ও স্থিতিশীল রাখা এখন জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তদন্ত কমিটি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। একইসাথে ব্রি ও অন্যান্য কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সঙ্কট ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিরসনে সরকার স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে।



