মাত্র ৮ ঘণ্টায় শতভাগ কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করে সংস্থাটি। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করায় সিসিক কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নগরবাসী।
সিসিক জানায়, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে ঈদের দিন সকাল থেকে কয়েক শতাধিক সিসিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে একযোগে কাজ করেছেন। সিসিকে ৬০টি বর্জ্য অপসারণ ট্রাক ও ভাড়া করা ৫৫টি ট্রাক বর্জ্যগুলো অপসারণ করে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণের কাজ চলে। ৮ ঘণ্টার অভিযানে নগরীকে পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত করা হয়। সবকটি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ করে চারপাশ পূর্বের পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে এবার আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল সিসিক। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ধারাবাহিক সমন্বয় সভা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরী পরিষ্কারের এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে এই কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন।
এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটে কোরবানিদাতার সংখ্যা কিছুটা কম হওয়ায় আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেটবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সচেতন নগরবাসীর যৌথ প্রয়াসেই আজ এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। সহযোগিতার জন্য তিনি নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান।
সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন বলেন, নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও আমাদের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমরা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের পর জীবাণু ও দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে পুরো নগরীতে ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে।



