ভারতীয় নাগরিকের লাশ ৫ বছর ধরে পড়ে আছে হিমঘরে

কী কারণে তিনি এখানে আসেন তা জানা যায়নি। আর পাঁচ বছরেও কেউ লাশের দাবি না করায় হিমঘরে পড়ে থেকে তা ধীরে ধীরে কঙ্কালে রূপ নিয়েছে।

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |সংগৃহীত

প্রবীর মন্ডল নামে এক ভারতীয় নাগরিকের লাশ পাঁচ বছর ধরে পড়ে রয়েছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে। তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বরানগর উপজেলায় বরানগর গ্রামে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বরানগর গ্রামের মহাদেব মন্ডলের ছেলে প্রবীর মন্ডল ২০২১ সালে বাংলাদেশ আসার পর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তিনি এখানে আসেন তা জানা যায়নি। আর পাঁচ বছরেও কেউ লাশের দাবি না করায় হিমঘরে পড়ে থেকে তা ধীরে ধীরে কঙ্কালে রূপ নিয়েছে।

প্রবীর মন্ডল ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে আসার পর তার কথিত বোন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা জনৈকা মোসা: হামিদা আক্তার হিয়াকে (১৯) সাথে নিয়ে ৮ নভেম্বর লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে নেমে প্রবীরের ফেসবুক বন্ধু হাতীবান্ধা থানা এলাকার অধিবাসী দীপঙ্কর বর্মনের (৫০) বাড়িতে আসেন। একই দিনে দীপঙ্কর বর্মন তাদেরকে নিয়ে তার পরিচিত লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানাধীন দহগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের (১৯) বাড়িতে যান এবং তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। পরিচয় করিয়ে দিয়ে দীপঙ্কর হাতীবান্ধা ফিরে আসেন।

পরে একই দিনে প্রবীর মন্ডল ও হামিদা আক্তার হিয়াকে নিয়ে মনিরুল ইসলাম তার ভগ্নিপতি পাটগ্রাম পৌরসভাধীন আজিবুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে যান এবং রাত্রিযাপন করেন। এক সময় হামিদা আক্তার হিয়া প্রবীর মন্ডলকে ঘুমন্ত অবস্থায় গোঙ্গানো ও হাত-পা ছটফট করতে দেখে চিৎকার করেন। এ সময় বাড়ির লোকজন প্রবীর মন্ডলকে চিকিৎসার জন্য পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রবীর মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যাপারে পাটগ্রাম থানার অপমৃত্যু মামলা নং-১৪/২০২১, তারিখ-০৮-১১-২০২১ রুজু হয়।

পর থেকে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রবীর মন্ডলের লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে কঙ্কাল হয়ে পড়ে রয়েছে।

পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।