৫ অপহরণকারী গ্রেফতার

গাজীপুরে মুক্তিপণের দাবিতে কারখানার সামনে থেকে ৩ কর্মকর্তাকে অপহরণ

গাজীপুরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে কারখানার সামনে থেকে তিন কর্মকর্তাকে অপহরণের পর মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৯৯ -এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
৫ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
৫ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ |নয়া দিগন্ত

গাজীপুরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে কারখানার সামনে থেকে তিন কর্মকর্তাকে অপহরণের পর মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৯৯ -এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলার শ্রীপুরে দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) কারখানার তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধরের ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর থানা সূত্র বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭ জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করে দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) কারখানার কাটিং সুপারভাইজার নাঈম আহম্মেদ লাভলু (২৯)। পরে ওইদনি রাতে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে।

আসামিরা হলো নেত্রকোনার বারহাট্রা উপজেলার বাইতপাড়া গ্রামের মরহুম তাজ উদ্দিনের ছেলে শাহিন (২০), শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের মরহুম সুলতান উদ্দিন খানের ছেলে নয়ন খান (১৮), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরবন্দি গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে রবিন (২৪), একই গ্রামের মরহুম হযরত আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৪০), আজিম উদ্দিনের ছেলে মাহবুব আলম (৩৫), মরহুম সুলতান উদ্দিন স্বপনের ছেলে ইমরান হাসান ইমন (৩০), দক্ষিণ ধনুয়া মকবুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া ফারুক মিয়া (৩৮) এবং শরীফ (৩১)।

মামলার বাদী দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) কারখানার কাটিং সুপারভাইজার নাঈম আহম্মেদ লাভলু জানান, বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডিউটি শেষে আমার সহকর্মী অরুপ রতন শর্মা, ইনপুটম্যান মিঠুন এবং প্রোডাকশন অফিসার নিশাত কারখানা থেকে বের হয়। পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামিরা তাদের তিনজনকে কারখানার সামনে থেকে অপহরণ করে দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের জনৈক এবাদত ওরফে ইয়াবু খানের বাড়ীতে আটক রাখে। পরে আসামিরা তাদের কাছে এক লাখ মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাদেরকে মারধর করে।

খবর পেয়ে আমি সহকর্মীদের উদ্ধারের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাকেও মারধরের চেষ্টা করে। তারা আমার মোটরসাইকেল রেখে দেয়। তাদের কাছ থেকে কৌশলে চলে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমার সহকর্মী মিঠুন, নিশাত ও অরুপ রতন শর্মাকে উদ্ধার করে।

এসময় তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের জখম থাকায় তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় ঘটস্থলের পাশ থেকে আসামি ইমরান হাসান ইমনের ব্যবহৃত পালসার মোটর সাইকেল (নং-ঢাকা মেট্রো-ল-২৪-০৭৩৫) জব্দ করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শাহিন, নয়ন খান, রবিন, দুলাল মিয়া এবং মাহবুব আলমকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে। মামলার বাদীর মোটরসাইকেল (নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ল-৩৫-৭০৫৪) দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের মরহুম এবাদত আলী খানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় জব্দ করে রাখেন।