সোনারগাঁওয়ে চাঁদা না দেয়ায় অটোরিকশা চালককে হত্যা, মহাসড়ক অবরোধ

বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Sonargaon
সোনারগাঁওয়ে চাঁদা না পেয়ে অটোরিকশা চালককে হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়দের মহাসড়ক অবরোধ
সোনারগাঁওয়ে চাঁদা না পেয়ে অটোরিকশা চালককে হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়দের মহাসড়ক অবরোধ |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ১০ টাকা চাঁদা না দেয়ায় মারধরের শিকার এক অটোরিকশা চালক তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নিহত মমিনুল মিয়া উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লাইনের চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাহিন মিয়া নামে এক যুবক ও তার সহযোগীরা অটোরিকশা চালক মমিনুল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয়বার ১০ টাকা চাঁদা দাবি করলে মমিনুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন মিয়াসহ তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এর আগে, মমিনুলকে মারধরের ঘটনায় সোমবার রাতে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন। ওই মামলায় শাহিন মিয়াকে আসামি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে মমিনুলের মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়রা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স মহাসড়কে রেখে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। ১০ টাকার জন্য তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। এখন দুই সন্তান নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।” তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, বিক্ষোভকারীরা অল্প সময়ের জন্য মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিল। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “চাঁদার দাবিতে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”