তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। টাকা অববাহিকার মানুষ দিবে। তিস্তা ‘কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে বন্ড বা সঞ্চয়পত্র চালু করুন, আমরা টাকা দেয়া শুরু করি।’
বুধবার (২০ মে) দুপুরে রংপুর মহানগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। এ সময় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাফিয়ার রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘কথার টানাপোড়েনে থাকতে চাই না। আমাদের সুস্পষ্ট কথা, আমরা তিস্তা পারের মানুষ এতো আন্দোলন করলাম, এতো মতবিনিময় সভা, এতো যাচাই-বাছাই, এতো লেখালেখি। পরিবেশবাদীরা তো এর পক্ষে-বিপক্ষে লেখেই ফেলছে। তারপরই সব ঠিক করার পরও এটা নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু পদ্মা সেতু ঘুম থেকে উঠে মানুষ দেখলো সেটা হয়ে গেল।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ বলতেছে আমরাও বলতেছি, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ কথা-ও কথা বলে এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপার না। এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তটা এর আগেও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অতীতেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাবে এটা হয়নি। ঋণ নিয়ে ঘি খাওয়ার দরকার নাই। এটা নিজস্ব অর্থায়নেই করতে হবে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প পদ্মা সেতুর চেয়ে চারগুণ কম টাকার। নয় হাজার কোটি টাকা ফার্স্ট ফেজের। এটা তো মেগা প্রজেক্টও না। এই প্রকল্পের জন্য আর এ কথা-সে কথা আমরা শুনতে চাই না। নিজস্ব অর্থায়নে করো। আমরা আগেও সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, দেখিয়েছি যে আমরা অন্যের টাকা চাই না। আমরাই এই টাকা দেবো। তিস্তা বন্ড চালু করো, আমরা সঞ্চয়পত্র মতো কিনবো। বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ করো।’
হক্কানী বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের বৈষম্যপ্রীত মানুষ বারবার প্রতারিত হচ্ছে, বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। মানুষ আজকে বলতেছে পদ্মা হলো হামার তিস্তা হলো না। আমরা ঠগলাম বাহে। যখন ভোট আসে সবাই ভোটের কথা দেয়। ভোট শেষ, সব শেষ।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের কথা হচ্ছে যে, বাহে কর্মসূচি দেন। আমরা বড় আন্দোলন করব। আন্দোলন করা ছাড়া তোমার এগুলা ফেদলা (শুধু শুধু কথা) দিয়ে কিছু হবে না, হবে না, হবে না। ঈদের আগে সরকারকে আমরা সময় দিতে চাচ্ছি। এই যে সময়ের মধ্যে আমরা চাই একনেকে এই প্রকল্প পাশ করো।’
তিনি আরো বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের রোডম্যাপ দিতে হবে। পদ্মায় তো রোডম্যাপ দিয়ে দিছে। কখন থেকে শুরু করবে, কখন শেষ করবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্যও এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রোডম্যাপ দিয়েছিল। ১ জানুয়ারি শুরু করবে। পাঁচ বছর এই কাজ করবে। তারপরে দ্বিতীয় ফেজের টাকা বরাদ্দ করবে। কিন্তু সেই রোডম্যাপ কিন্তু হাওয়া হয়ে গেল আমাদের বেলায়।’
নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘আমরা রোডম্যাপটা আমরা চাই। একনেকে অর্থ বরাদ্দ ও নিজস্ব টাকায় এটা বাস্তবায়নের দাবিতে বড় আন্দোলন ছাড়া আমরা এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা মনে করি না।’
সংবাদ সম্মেলনে দাবি আদায়ে তিস্তা পাড়ে আগামী ৫ জুন সর্ব শ্রেণি-পেশার মানুষের সংহতি সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন হক্কানী।



