গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিন দফা দাবিতে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে দেয়া নিয়োগ বাতিল করতে হবে, ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ যোগ্য শিক্ষককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে এবং সাম্প্রতিক সঙ্ঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। সোমবার রাতের মধ্যে দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। এরপর থেকে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও ব্লকেডসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা।
সোমবার সকাল থেকে ব্লকেড কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চললেও ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সঙ্কট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষক প্রতিনিধিরা বলেন, তারাও ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে সরকার যেহেতু একজনকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, সেক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একইসাথে সোমবার রাতের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল থেকে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্লকেড কর্মসূচি চলছিল এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে ছিলেন।



