গাজীপুরে একটি তৈরী পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিক পরিবহনের বাসে চাঁদা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় কয়েকটি বাস ভাংচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ গ্রামের আরবেলা ফ্যাশন লি. নামক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতরা হলেন রুহুল আমীন মন্ডল (৫০), মোবারক হোসেন বাবু (৩৪), আলাউদ্দিন (৩৪), মাহাবুব আলম (৩২), সিফাত (৩০), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৩০) শিপু মিয়া (২৯), জুনায়েদ মোল্লা (২৮), মাসুম আহমেদ (৩৫), নাহিদ ইসলাম (৩৪), বাবু মিয়া (৩০) ও নিলয় আহমেদ (১৭)।
তারা বিএনপি ও কৃষক দলের নেতা-কর্মী বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
গুরুতর আহত পাঁচজনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০/২৫ জন যুবক কারখানার সামনে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে লাঠিসোটা নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
বরমী ইউনিয়ন কৃষক দলের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাসুম আহমেদ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বৈধভাবে আরবেলা ফ্যাশন লিমিটেডের পোশাক কারখানার শ্রমিক আনা-নেয়ার পরিবহন সরবরাহ করে আসছেন। বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান শামীম মোল্লা, আলমগীর ডাক্তার, মনির হোসেন ও জুনায়েদসহ তাদের সহযোগীরা তার কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এসব বিষয়ে শ্রীপুর-বরমী সড়কের গাড়ারণ গ্রামের কারখানার প্রধান ফটকের সামনে কথাবার্তা হচ্ছিল। একপর্যায়ে শামীম মোল্লার ছোট ভাই জুনায়েদ মোল্লাসহ তার ২০/২৫ জন সহযোগী সড়কের পাশে দোকানের পেছন থেকে লাঠিসোটা নিয়ে আসে তাকে এবং তার লোকজনকে মারধর শুরু করে। এতে তিনিসহ তাদের হামলায় পাঁচজন আহত হয় এবং শ্রমিকবাহী তিনটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে বরমী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান শামীম মোল্লা বলেন, বাস ভাংচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শনিবার নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীকে মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তায় সংবর্ধনা দেয়ার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নির্দেশনায় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করছিলাম। আলোচনা শেষ করে কারখানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কৃষক দলের নেতা মাসুম আহমেদ ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তার পক্ষের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে থানা ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাসের জানালার কাচ ভাংচুর করা হয়েছে। ঘটনার পরই এক পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।



