‘নজরুল মানেই বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান’

শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম একটি বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর মতো ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক সাহিত্যের আকাশে বিরল। মাত্র ২২ বছরের সাহিত্যচর্চার জীবনে এত মানোত্তীর্ণ কবিতা, গান, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের সকল বিভাগে বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন। সমকালীন সমস্যার সমাধানে সবসময়েই তিনি পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi
রাজশাহীর শাহ মখদুম কলেজে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীতে পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা
রাজশাহীর শাহ মখদুম কলেজে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীতে পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা |নয়া দিগন্ত

‘শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম একটি বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর মতো ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক সাহিত্যের আকাশে বিরল। মাত্র ২২ বছরের সাহিত্যচর্চার জীবনে এত মানোত্তীর্ণ কবিতা, গান, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের সকল বিভাগে বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন। সমকালীন সমস্যার সমাধানে সবসময়েই তিনি পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানের আজাদী, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবেও তিনি ফিরে এসেছেন নতুন আঙ্গিকে। তাই নজরুল মানেই বাংলাদেশের অস্তিত্ব, বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান।’

সোমবার (২৫ মে) রাজশাহীর শাহ মখদুম কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিচয়ের প্রধান উপদেষ্টা কথাশিল্পী ও অনুবাদক ডা: নাজিব ওয়াদুদ।

পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি কবি ও গবেষক প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের সভাপতিত্বে এবং কথাসাহিত্যিক মনির বেলালের উপস্থাপনায় মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক কবি সায়ীদ আবুবকর।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, কবি ও আইনজীবী খুরশীদ আলম বাবু, কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন।

আলোচনা করেন রাবি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক কামাল মাহমুদ, কবি আবদুর রাজ্জাক রিপন, কবি নজরুল ইসলাম গবেষণা কেন্দ্রের সহসভাপতি আজহারুল ইসলাম রণি, সাধারণ সম্পাদক কবি সানারুল ইসলাম বাহার, কবি ও গবেষক ড. মঞ্জিলা শরীফ, কবি ফারহানা শরমিন জেনী, কবি শাহাদাৎ সরকার, কবি মাহাইর ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা আরো বলেন, চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশকে যে অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতির মাধ্যমে অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে তার প্রতিরোধে নজরুলের দ্রোহের কোনো বিকল্প নেই। আগামী প্রজন্মকে মূল্যবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নজরুল চর্চা এখন দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক।

এ জন্য শিক্ষার সর্বস্তরে নজরুল চর্চাকে আরো বাড়াতে হবে। বিশেষ করে উচ্চতর শিক্ষায় নজরুলকে আলাদাভাবেই বিশেষ গুরুত্বসহকারে পাঠ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। সেইসাথে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুল সাহিত্যকে পৌঁছে দেয়ার যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

কবি এরফান আলী এনাফ, কবি সোহেল করিম দিপু, কবি সরদার মুক্তার আলী, অ্যাডভোকেট রজব আলীসহ রাজশাহীর উল্লেখযোগ্য লেখক-সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের গান ও কবিতায় অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন সুরকার-শিল্পী শোয়েব আলী, শিল্পী জাকারিয়া জয়াস এবং শিশুশিল্পী মুগ্ধ।