চিলমারিতে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে আবারো ধস, বাড়ছে আতঙ্ক

প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের আতঙ্ক বাড়ে। এবারো বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Chilmari
বাঁধে ধস
বাঁধে ধস |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় তিনটি স্থানে ধস ও একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিবুল হাসান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় ১০, ১২ ও ছয় মিটার অংশের ব্লক পিচিং ধসে গেছে। এছাড়া অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার ধসের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙন আতঙ্কে থাকতে হয় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।

কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মো: মমিনুল ইসলাম বলেন, ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর আমরা নদী ভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বার বার ধসের ঘটনায় আমরা আবারো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারো ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব।

স্থানীয় বাসিন্দা আলেয়া বেগম ও নুর জাহান বেগম বলেন, প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের আতঙ্ক বাড়ে। এবারো বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাকিবুল হাসান জানান, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে দুই-এক দিনের মধ্যে বাঁধটি ঝুঁকিমুক্ত করা যাবে।