‘সাভারে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’

পুলিশ সুপার জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি শামীম রেজাসহ অন্যদের গ্রেফারে তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল—দুই পদ্ধতিতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

Location :

Savar
সাভার থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন
সাভার থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন |নয়া দিগন্ত

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
সাভারে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাভার মডেল থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীকেও পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সাভার মডেল থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

তিনি বলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—এসআই মনির, এএসআই আসিফুর ও এএসআই মেরাজ। তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থানার অন্য কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি শামীম রেজাসহ অন্যদের গ্রেফারে তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল—দুই পদ্ধতিতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু সাভার মডেল থানায় মাদক-সংশ্লিষ্ট নয়টি মামলা হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সাভার মডেল থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শামীম রেজা রাজশাহীর শাহ মখদুম উপজেলার ভোলাবাড়ী এলাকার আকবর আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভার পৌর এলাকার রাজাশন পলানপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে সাভার পৌর এলাকার পশ্চিম রাজাসন মহল্লায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত শামীম রেজার আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দেশ টিভি ও এসএ টিভির সাংবাদিক, ক্যামেরাপার্সন ও গাড়িচালকরা। এ সময় শামীম রেজার নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সাংবাদিক, ক্যামেরাপার্সন ও গাড়িচালক আহত হন।

এ ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো প্রধান অভিযুক্ত শামীম রেজাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।