ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চোছনায় রিনা আক্তার (৪০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতর বালুচাপা দিয়ে গুম করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ওই ঘরের একটি কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও স্থানীয়দের ধারণা, সাইফুল ইসলাম (৩০) নামে এক নির্মাণশ্রমিক ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বালুচাপা দিয়ে রাখে।
এলাকাবাসী জানান, রিনা আক্তারের স্বামী মো: মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে রয়েছেন। সাইফুল ইসলাম নির্মাণশ্রমিক ছাড়াও সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেও জানায় এলাকাবাসী।
সাইফুল ইসলাম পাশের জমিদার বাড়ির আবুল খায়েরের মেজো ছেলে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, রিনা আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দেড় শ’ গজ দূরে নতুন বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণকাজ চলছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ঘরে পানি দিতে যান রিনা। দীর্ঘ সময়েও বাসায় ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায় নির্মাণাধীন ঘরের একটি কক্ষে বালুর স্তুপ দেখে সন্দেহ হলে বালু সরাতে শুরু করলে তার লাশ দেখতে পান। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে আজ বুধবার বিকেলে পুলিশ স্বজনদেরকে লাশ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে রাতেই খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো: সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুমসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা লাশটি উদ্ধার করেছি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। সাইফুলকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে পিবিআই-এর একটি টিম ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে সাইফুলের স্ত্রী প্রমাকে (২৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে তার মা আলেয়া বেগমকে ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দীর্ঘদিন আমার সাথে ছিল না। সে আমাদের খোঁজ-খবর নিতো না। সে মঙ্গলবার সকালে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।’
নিহতের ছোট ছেলে রাজুর (১২) বর্ণনা মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মাকে বাসায় না পেয়ে তাদের নির্মাণাধীন বাড়িতে খুঁজতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখেন সাইফুল নামের একজন শ্রমিক কাজ করছে। তার মায়ের বিষয় জানতে চাওয়া হলে সে দেখেননি বলে জানান। তখন সাইফুল ওই রুমে বালুর কাজ করছে বলেও জানান রাজু।
নিহতের ননদ জানান, ‘আমি খোঁজাখুঁজি করে ওই কক্ষে গিয়ে দেখি কোনায় বালু কিছুটা উঁচু। উপরে প্লাস্টিক ও কাঠ ছিল। ওইগুলো তুলে দেখি আমার ভাবির লাশ।’
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনায় জড়িত সাইফুল ইসলাম ওখানে গিয়ে মাদক সেবন করতো। তার সাথে একই বাড়ির সাজু নামে একজনও থাকতেন। তারা ওই ঘর নির্মাণে কাজ করতো। ইব্রাহিম নামে এক ঠিকাদারের অধীনে তারা কাজ করতো।
নির্মাণাধীন ঘরটির আশপাশের পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘরের রড থেকে শুরু করে নির্মাণ সামগ্রী চুরি হওয়া নিয়ে সাইফুলের সাথে রিনার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এছাড়া সাইফুল ও তার সহযোগীরা সেখানে মাদক সেবন করায় কয়েকবার বাধাও দেন রিনা। এসব নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



