শিক্ষামন্ত্রী

ভবন নয়, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

‘সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইউটির মতো নিজেদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।’

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর
আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস সেরিমনি-২০২৬
আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস সেরিমনি-২০২৬ |নয়া দিগন্ত

শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে আরো সক্ষম ও আত্মনির্ভর করে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সব জায়গাতেই অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি শুনি। কিন্তু আমি আগে দেখতে চাই উৎপাদনশীলতা, গবেষণা, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের অর্জন। ভবন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।’

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’র (আইইউটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আইইউটি এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস সেরিমনি-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইউটির মতো নিজেদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।’

আইইউটির শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড ও অ্যাকাডেমিক সাফল্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের অর্জন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। এ ধরনের সম্মাননা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো ভালো কাজের অনুপ্রেরণা জোগায়।’

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার আইইউটির গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। প্রয়োজনে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরা হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইইউটির ভিসি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রেষ্ঠত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন অর্জন নয়; এটি একটি সংস্কৃতি, অভ্যাস ও দায়িত্ব। আজকের এই আয়োজন শুধু পুরস্কার প্রদান নয়; বরং মেধা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সৃজনশীলতার স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘ওআইসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইইউটি বর্তমানে ২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের ৩২৩ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ মোট তিন হাজার ৩৩১ জন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি আট হাজার ৮৮১ জন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছে। যার মধ্যে ৩৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ২৭ শতাংশ আন্তর্জাতিক অ্যালামনাই রয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের হার ৯৭ শতাংশ এবং অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্নের তিন মাসের মধ্যেই কর্মজীবনে প্রবেশ করছে।’

ভিসি বলেন, ‘কিউএস এশিয়া র‌্যাংকিংয়ে আইইউটির অবস্থান ৪৩০-এর মধ্যে এবং বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১২০০-এর মধ্যে রয়েছে, যা একটি বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে বর্তমান আইইউটিতে রূপ নেয়।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যালামনাই ও দেশী-বিদেশী অতিথিদের উপস্থিতিতে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।