মোরেলগঞ্জে শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল বারি গত ২৯ জুন তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বেআইনিভাবে চুক্তিভিত্তিক প্রিন্সিপাল হিসেবে চাকরির পাঁয়তারা করছেন।

মিজানুর রহমান, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

Location :

Bagerhat
শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন
শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন |নয়া দিগন্ত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল বারি বিরুদ্ধে ওই মাদরাসার ইসলামের ইতিহাসের প্রভাষক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

রোববার (৫ জুলাই) বেলা ১১টায় মাদরাসার মূল ফটকের সামনের সড়কে পরীক্ষা বর্জন করে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে অবিভাবকরাও অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গুলিশাখালী ফজিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল বারি গত ২৯ জুন তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বেআইনিভাবে চুক্তিভিত্তিক প্রিন্সিপাল হিসেবে চাকরির পাঁয়তারা করছেন।

তারা বলেন, তিনি মাদরাসায় দায়িত্বে থাকাকালে শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন। এছাড়া নানা অজুহাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে অর্থ আদায়সহ নানাবিধ অপকর্ম চালাতেন।

তারা আরো বলেন, চাকরির মেয়াদ শেষে তিনি স্বাভাবিক অবসরে যাবেন, এটাই সবার কাম্য। কিন্তু তিনি তা না করে, অপকৌশলের আশ্রয় নেন। তিনি বেআইনিভাবে ম্যানেজিং কমিটির সুপারিশ নিয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের কাছে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠান।

বুধবার মাদরাসার শিক্ষকরা সভা করে তাকে অধ্যক্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রতিবাদ জানান। এ সভার জেরে শনিবার সকালে গুলিশাখালী বাজারে মাদরাসার ভুক্তভোগী শিক্ষক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে মারধরসহ শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। এতে অন্য শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকালে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার তৃতীয় দিনের পরীক্ষা বর্জন করেন এবং মাদরাসার সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক মাওলানা মজিবুর রহমান, ভাইস প্রিন্সিপাল মো: শাহআলম, সহকারী শিক্ষক আল মামুন, ইবতেদায়ী শিক্ষক নাজমিন আক্তার, কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগম, শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফ্ফার, শিক্ষার্থী নবীন, রোমেনা আক্তার, আব্দুল্লাহ, শাহিদা আক্তার, মোরশেদা, অভিভাবক আব্দুল আউয়াল তালুকদার, দেলোয়ার গাজী, হাফিজা বেগম বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, শিক্ষককে মারধরের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না। প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একই সাথে মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল আব্দুল বারিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, গুলিশাখালী ফাজিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের ঘটনায় ভাইস প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলেছি। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষা বর্জন না করে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না হয় সে বিষয়ে সার্বিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।