ডিমলায় ওষুধ ও জনবল সঙ্কটে মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা স্থবির

ওষুধ সঙ্কটের কারণে মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রম থমকে আছে। জনবল ও ওষুধ সরবরাহ না থাকায় মাঠ পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে না পারলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।

Location :

Dimla
ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়
ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় |নয়া দিগন্ত

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ওষুধ ও জনবলের তীব্র সঙ্কটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত এক বছর ধরে নিরোধ, ওরাল পিল, ইনজেকশন, আইইউডিসহ জরুরি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী এবং মা-শিশুর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সরবরাহ একেবারে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় কর্মরত জনবলের সংখ্যা নামমাত্র। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ বেড়ে যাওয়াসহ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত অফিসিয়াল জনবল তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক শূন্যতা দেখা গেছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে একটি অনুমোদিত পদ থাকলে সেই পদ শূন্য। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (এসএসিএমও) তিনজন, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) তিনজন, পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) ২৭ জন ও আয়া পদে আটজন কর্মরত রয়েছেন। যা অনুমোদিত পদের প্রায় অর্ধেক বা তার চেয়েও কম। এছাড়া মেডিক্যাল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট, মিডওয়াইফ, দাই নার্স, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরীসহ একাধিক পদ পুরোপুরি শূন্য বা অত্যন্ত ঘাটতিপূর্ণ।

কোরানি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছাম্মৎ আফসানা চৌধুরী (২৫) বলেন, ‘ওষুধ সঙ্কটের কারণে মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রম থমকে আছে। দ্রুত এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে না পারলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক জানান, জনবল সঙ্কটের কারণে একজন কর্মকর্তাকে তিনটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে কাজের চাপ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যথাযথ সেবা দেয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র জানায়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মা-শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে তীব্র স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ওষুধ ও সামগ্রীর অভাবে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, ‘জনবল ও ওষুধ সরবরাহ না থাকায় মাঠ পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। তবে সরকার কর্তৃক গৃহীত নতুন উদ্যোগে জনবল ও চলমান সঙ্কট কেটে ওঠার প্রত্যাশা করছি।’

নীলফামারী জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক এস এম আল কামাল বলেন, ‘জনবল সঙ্কট নিয়ে তথ্য চেয়ে অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিলে জনবল সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারব।’

ডিমলা উপজেলায় এই দ্বৈত সঙ্কট (ঔষধ ও জনবল) দ্রুত সমাধান না হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও সুবিধাভোগীরা।