উলিপুরে বুড়িতিস্তা সেতুর একাংশ ধসে যান চলাচল বন্ধ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Ulipur

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার বুড়িতিস্তা নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর একাংশ ধসে পড়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড ও তবকপুর ইউনিয়নের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও নিত্যযাত্রীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে জোনাইডাঙ্গা কালিবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর একটি অংশ দেবে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বুড়িতিস্তা নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হলে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুলাই সন্ধ্যায় বিকট শব্দে সেতুর একাংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামনা বেগম বলেন, বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখেন সেতুর একাংশ দেবে গেছে এবং অন্য অংশেও ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বুড়িতিস্তা নদী খননের পর পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জোনাইডাঙ্গা, সরদারপাড়া, আখসরদারপাড়া, বলদিপাড়া, ভদ্রপাড়া ও খাওনার দরগাহসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এ সেতু ব্যবহার করেন।

সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় জোনাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, উলিপুর বহুমুখী আলিয়া মাদ্রাসাসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। পাশাপাশি রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জেহাদ মিয়া বলেন, নদী খননের পর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং নদীর তুলনায় সেতুটি ছোট হওয়ায় দুই পাশের পাড় ভেঙে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।

উলিপুর পৌরসভার সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বলেন, পৌর এলাকার এ সেতুসহ তিনটি সেতুই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলো সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।