ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না

‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পাশের রাষ্ট্র ভারতের একটি রাজ্যের নির্বাচন। এটা নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। একটি দেশের নির্বাচন সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ফলে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Bauphal
বাউফলে হিন্দু নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
বাউফলে হিন্দু নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ |নয়া দিগন্ত

‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না’ বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পাশের রাষ্ট্র ভারতের একটি রাজ্যের নির্বাচন। এটা নিয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই। একটি দেশের নির্বাচন সেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ফলে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি বিজয়ী হয়েছেন কি না—এ নিয়ে সেখানে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এর কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।’

মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলা জামায়াত আয়োজিত হিন্দু নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করে ভালো থাকার পথ নির্ধারণ করব। এই রাষ্ট্র আমাদের, এই মাটিও আমাদের। আমাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারলে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা বলি, সেটা করার চেষ্টা করি—এটা আমাদের ঈমানের অংশ, আমাদের ইবাদতের অংশ।’

আমরা সালাত আদায় করছি, এটি যেমন আমাদের স্রষ্টার পক্ষ থেকে নির্দেশ, তেমনি আমরা যা বলব, সেটাই করব। দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে বাউফলকে একটি আদর্শ ও মানবিক এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্জন করেছি—রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাদক কারবারিদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার যে প্রথা, সেটি আমরা ইতিমধ্যে নির্মূল করতে পেরেছি। যেহেতু আমরা এটা পারছি, বাকিগুলোও পারব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ক্যান্সারের মতো মহামারি। ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আপনাদের সহযোগিতায় এই মহামারির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিতে পেরেছি। একসময় প্রশাসনের লোকজন বলত—স্যার, ধরব কীভাবে? ধরার আগেই তো তাদের পক্ষে তদবির করার জন্য লোক থানায় এসে বসে থাকে। এখন অন্তত এই পরিস্থিতি নেই। তারা স্বীকার করছে যে, আমরা সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি এবং সময় পেলে মাদক নির্মূল সম্ভব।’

চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলার দুটি আইনশৃঙ্খলা সভায় আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—প্রথমত মাদক নির্মূলে সকল কমিউনিটির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, দ্বিতীয়ত চুরি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে আপনারা দেখছেন, কীভাবে চোরেরা ধরা পড়ছে। এখন আমরা চোরের সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ করছি। মাদক ও চুরি দমনে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পৃথিবীর সব অপরাধ একবারে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তা হলে আইন-আদালতের প্রয়োজনই থাকত না। তবে অপরাধকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাউফল কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক অধীর চন্দ্র দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় অর্ধশতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।