সাভারে কলেজছাত্রকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগে ১১ বাস আটক

বুধবার (৬ এপ্রিল) সাভার সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের এক ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগে তারা এ বাসগুলো আটক করে।

Location :

Savar

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
সাভারে মোহাম্মদ ইমন নামে এক কলেজছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা সেফফি পরিবহনের ১১টি বাস আটকে রেখেছেন।

বুধবার (৬ এপ্রিল) সাভার সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের এক ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগে তারা এ বাসগুলো আটক করে।

শিক্ষার্থী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমন ধামরাই সরকারি কলেজে পরীক্ষা দেয়ার জন্য সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে সেলফি পরিবহনের একটি বাসে ওঠে। পথে স্টুডেন্ট ভাড়া নিয়ে তার সাথে বাসের কন্ট্রাকটার ও হেলপারের বাগবিতণ্ডা হয়। বাসটি ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ওই ছাত্রকে ফেলে দিয়ে বাসটি দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। এ সময় মহাসড়কের আইল্যান্ডে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ইমন মারাত্মক আহত হন।

পরে, পথচারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভার বাসস্ট্যান্ডের সুপার মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার আহত হওয়ার খবর জানতে পেরে তার কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা এলাকা থেকে সেলফি পরিবহনের ১১টি বাস আটক করে তাদের কলেজ মাঠে নিয়ে যায়। রাত ৮টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাসগুলো আটক অবস্থায় ছিল।

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলরত সেলফি পরিবহন এক আতঙ্কের নাম। এমন কোনো দিন নেই, যেই দিন তারা দুর্ঘটনা না ঘটায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানান, আহত মোহাম্মদ ইমন অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। বুধবার তার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। বাস থেকে ইমনকে মহাসড়কের আইল্যান্ডের উপর ফেলে দিলে তার মাথার পেছনে গুরুতর জখম হয়। তার মাথায় ১৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। সে ডান পা এবং পিঠেও আঘাত পেয়েছে।

আটক বাসের এক চালক আজগর হোসেন বলেন, যেই গাড়িটি ছাত্রকে ফেলে দিয়েছে সেই গাড়ির নম্বরও তারা বলতে পারছেন না। আমাদের গাড়িগুলো সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তারা এখানে নিয়ে এসেছে। আমরা মালিকপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি, তারা বিষয়টি দেখছেন।