পানি কমতেই ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে নদীতীরের বাসিন্দারা

তীব্র ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও প্রতিরক্ষামূলক কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে নেয়া প্রতিটি প্যাকেজ কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

Location :

Kurigram
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি
নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি |নয়া দিগন্ত

উজানের ঢল নেমে যাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সাথে সাথেই কুড়িগ্রামের রৌমারী অঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। নদের করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি ও বসতভিটা।

ইতোমধ্যেই উপজেলার সুখেরবাতি, খেদাইমারী, সোনাপুর, চর গেন্দার আলগা, ফুলুয়ারচর ও চরইটালুকান্দা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি, শত শত একর ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি বিশেষ প্যাকেজের মাধ্যমে কাজ শুরু করলেও নদী ভাঙন পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও প্রতিরক্ষামূলক কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে নেয়া প্রতিটি প্যাকেজ কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। যার প্রতিটি প্যাকেজে রয়েছে ছয় হাজার করে জিও ব্যাগ।

বর্তমানে ফুলুয়ারচর ও চরইটালুকান্দা এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও সোনাপুর, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এলাকায় এখনো ভাঙন রোধের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, এই জরুরি সরকারি তদারকি ও প্যাকেজ বরাদ্দের পরও পুরোপুরি স্বস্তি ফিরছে না নদীপাড়ের মানুষের মনে।

সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সুখেরবাতি ও সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদী যেকোনো সময় তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিতে পারে এই আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগেই ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া অন্যের জমিতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।