গাজীপুরে নয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করে আপত্তিকর ছবি ধারণের অভিযোগে শিশুটির ফুপাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত সেলিম খান (৪০) মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার বিক্রমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রউফ খানের ছেলে। তিনি বিগত ৫ বছর যাবৎ মহানগরের পূবাইলের হায়দরাবাদ গজারিয়ারটেক এলাকায় তার শ্যালকের (বাদির) বাসায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ১২টায় পূবাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, সেলিম খান গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে পূবাইলের হায়দরাবাদ গজারিয়ারটেক এলাকায় তার শ্যালকের (বাদির) বাসায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। শিশুকন্যাটি তার ফুপু ও ফুপা সেলিম খানের ঘরে প্রায় সময়ই আসা-যাওয়া করতো। শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২৩ মে দুপুরে বাদির বড় মেয়ে অভিযুক্ত সেলিম খানের কক্ষে যান। সেখানে সেলিম খানের ব্যবহৃত ডেক্সটপ কম্পিউটারটি চালু থাকায় সেখানে ছবি দেখতে গিয়ে হঠাৎ তার ছোট বোনের কিছু আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সে পরিবারের অন্য সদস্যদের জানায়।
এমন ঘটনা জানার পর পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি জানায়, তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
শিশুটি আরো জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে’র মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত সেলিম খান তাকে চিপস বা বিভিন্ন খাবারের লোভ দেখিয়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যেতেন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখে।
পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিশুর বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত সেলিম খানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে আসামি সেলিম খানকেও আদালতে পাঠানো হয়েছে।’



