চুয়াডাঙ্গায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদক ছাই করল বিজিবি

ধ্বংস করা এসব মাদক গত এক বছরে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তে বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
মাদক ধ্বংস করছে বিজিবি
মাদক ধ্বংস করছে বিজিবি |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (৬ বিজিবি) ব্যাটালিয়ন সদরে প্রকাশ্য আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো তিন কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকার মাদকের চালান।

আজ বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টার দিকে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ ফেন্সিডিল, হেরোইন, কোকেন, বিদেশি মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের মাধ্যমে সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা আরো একবার স্পষ্ট করল বিজিবি। ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল ৩,৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০,৬১৭ বোতল ফেন্সিডিল, ২৯ বোতল বিয়ার, ২৩৮.৭৯ কেজি গাজা, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫,৪৮৫ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ১৯টি ইনজেকশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যশোর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু ব্যক্তি নয়, একটি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দিন-রাত সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। এই যুদ্ধ শুধু বিজিবির একার নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান জানান, ধ্বংস করা এসব মাদক গত এক বছরে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তে বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথি কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে, কিন্তু বিজিবিও প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় একধাপ এগিয়ে আছে।’

বিজিবি সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর সীমান্তে পরিচালিত শতাধিক অভিযানে ৪৯ জন চোরাকারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ হয়েছে ৩৪ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৫ টাকা মূল্যের। তারই একটি অংশ আজ ধ্বংস করা হলো।

ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরাও পুরো কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে চিহ্নিত। ভারত থেকে ফেন্সিডিল ও গাজার চালান এবং কক্সবাজার রুট হয়ে ইয়াবা ও কোকেনের প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির এই প্রকাশ্য ধ্বংসযজ্ঞ চোরাকারবারিদের জন্য বড় বার্তা।