পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বহুল আলোচিত ডাকাতি মামলার আসামি পলাতক মো: আলামিন আকনকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮, বরিশাল।
রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার শিয়ালকাঠী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আলামিন জোলাগাতি গ্রামের জাকির আকনের ছেলে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ -এর একটি আভিযানিক দল কাউখালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আলামিন আকনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার আলামিন কাউখালী থানার চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল বাড়ির বারান্দার দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে নগদ এক লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ টাকা, ২২ ভরি ১০ আনা স্বর্ণালংকার, ৬০০ মার্কিন ডলারসহ প্রায় ৬০ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫০ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা কাউখালী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব-৮ এর সহায়তা চান। পরে র্যাব পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আলামিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাউখালী থানায় রাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডাকাতির শিকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সেদিনের ঘটনা এখনো আমাদের পরিবারকে আতঙ্কিত করে রাখে। অস্ত্রের মুখে সবাইকে বেঁধে ফেলে তারা সবকিছু লুট করে নেয়। প্রধান আসামিদের একজন গ্রেফতার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার চাই।’
র্যাব-৮ -এর এক কর্মকর্তা জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যান্য জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন জানান, উক্ত আসামির বিরুদ্ধে বাগেরহাটের শরণখোলা, মংলা ও ফকিরহাট এবং পিরোজপুর জেলার কাউখালী ও ভান্ডারিয়া থানায় ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে সোমবার পিরোজপুরে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।



