বোরোর বাম্পার ফলনেও খরচে হিমশিম ফেনীর কৃষকরা

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: আতিক উল্যাহ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, পোকা দমনসহ সুষম স্যার ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পরামর্শ বাস্তবায়নসহ নানা কারণে এবার জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

Location :

Feni
বোরোর বাম্পার ফলনেও খরচে হিমশিম ফেনীর কৃষকরা
বোরোর বাম্পার ফলনেও খরচে হিমশিম ফেনীর কৃষকরা

ফেনীতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান ঘরে উঠাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। সময়মতো বৃষ্টিপাত ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার বেশি উৎপাদন হলেও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও শ্রমিক মজুরি বেশি হওয়ায় লাভের আশা তো দূরে থাক খরচ পোষাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে বাম্পার ফলনেও ফেনীর কৃষকদের মন ভালো নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় ৩১ হাজার ৪০৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার স্থলে আবাদ হয়েছে ৩১ হাজার ৪১৭ হেক্টর। এর মধ্যে সদর উপজেলায় আট হাজার ৭০৩ হেক্টর, ছাগলনাইয়ায় পাঁচ হাজার ৭৪৫ হেক্টর, দাগনভূঞায় ছয় হাজার ৪৮৫ হেক্টর, ফুলগাজীতে চার হাজার ৭১৯ হেক্টর, পরশুরামে তিন হাজার ২৫৫ হেক্টর ও সোনাগাজীতে দুই হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের পাঁচ হাজার ৭৫৬ হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ২৫ হাজার ৬৭১ হেক্টর ধান আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, শনিবার পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ কর্তন শেষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আশা করছে, এপ্রিলের শেষ দিকে শুরু হওয়া বোরো কর্তন চলতি মাসের শেষ দিকে শেষ হবে।

ইতোমধ্যে কর্তন হওয়া জমিতে উৎপাদনও লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের ধানে হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ৭৫ টন উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধার্য্য করে। এরস্থলে উৎপাদন হয়েছে ৪ দশমিক ৭৮ টন।

অন্যদিকে উচ্চ ফলনশীল জাতেও হেক্টর প্রতি ৩ দশমিক ৭৬ টন উৎপাদনের লক্ষমাত্রার স্থলে ৩ দশমিক ৭৭ টন উৎপাদন হয়েছে।

সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, মৌসুমের শেষ দিকে ডিজেলের মূল্য বাড়ায় সেচ খরচ বেড়ে যায়। একইভাবে শ্রমিক মজুরীও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকরা আয়-ব্যায়ের হিসাব মিলাতে পারছেন না।

সরকারি হিসাব মতে কেজি প্রতি ধানে উৎপাদন খরচ ২৫ দশমিক ৩৩ টাকা ধরা হলেও কৃষকদের হিসাবে এই খরচ ৩০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ হিসাবে তারা বলছেন সরকারি হিসাবে ৭৫০ টাকা করে শ্রমিক মজুরী নির্ধারণ করা হলেও মাঠে শ্রমিকের দাম ক্ষেত্র বিশেষে এর দ্বিগুণও হয়েছে।

পরশুরামের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক মো: নয়ন (৪৫) জানান, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে ওই এলাকায় ধান কাটতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। এক্ষেত্রে জনপ্রতি শ্রমিক মজুরি ১৫০০ টাকা পড়েছে বলেও তিনি জানান। দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও ১০০০ টাকার নিচে শ্রমিক পাওয়া যায়নি।

তবে সদর উপজেলায় শ্রমিক মজুরি আগের থেকে বেশি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা।

লেমুয়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিপন চৌধুরী জানান, এখানে শ্রমিক মজুরি আগের মতোই আছে। তাছাড়া ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েনি। ডিজেলের মূল্য বাড়ার আগেই ধান পরিপক্ক হয়ে যাওয়ায় সেচের প্রয়োজন হয়নি। তাছাড়া শেষ দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচ খরচ কমে গেছে।

তিনি জানান, ওই এলাকায় ৯৫ শতাংশ বোরো কর্তন শেষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: আতিক উল্যাহ জানান, অনুকূল আবহাওয়া, পোকা দমনসহ সুষম স্যার ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পরামর্শ বাস্তবায়নসহ নানা কারণে এবার জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

তিনি বলেন, দিন দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনও যেভাবে বাড়ানো যায় সেই বিষয়ে কৃষকদেরকে যথাযথ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অধিক ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান আবাদে কৃষকদের আগ্রহী করতে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, এবার জেলায় ব্রি-১০৮ জাতের ধানে সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। এখানে হেক্টর প্রতি ৩ দশমিক ৮ টন চাল বা ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশি উৎপাদন হয়েছে বলেও জানান তিনি।