একই কর্মস্থলে থেকে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করে ১৬ বছর পার করার পর, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে কর্মকর্তার বদলি হয়েছে। তার বিদায়জনিত কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ার শঙ্কায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপে জোর করে করা হলো বিদায় অনুষ্ঠান!
আর এমনটাই ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচরে। কেননা, আজই ছিল এই কর্মকর্তার এ উপজেলায় শেষ কর্মদিবস।
জেলা শিক্ষা অফিসারের বরাত দিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার ৫১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেলা ১টায় ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে জরুরি সভা ডেকে সকলকে জড়ো করেন।
চলমান স্কুল রেখে সকল প্রধান শিক্ষককে বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অলিখিত এই বিদায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত করার বিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১টায় উপজেলার ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বিদায়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলম তার বক্তব্যে উপস্থিত প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন আপনাদের উপজেলায় কর্মরত ছিলাম। আমার কথাবার্তা ও আচার-আচরণে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
এ বিষয়ে স্বাগতিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সি উপস্থিতির জন্য সকল প্রধান শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বিদায়ী শিক্ষা অফিসার তাদের কোনো কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনিও যেন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন সেই অনুরোধ জানান।
তবে বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত এই শিক্ষা অফিসারের জোর করে নেয়া বিদায় অনুষ্ঠানে কোনো প্রধান শিক্ষকই বিদায়ী কর্মকর্তার বিদায় সম্পর্কে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তাই কোনো প্রধান শিক্ষক আর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য রাখেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম জেলা শিক্ষা অফিসারের গাড়িতে করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
এই বিদায় অনুষ্ঠান সম্পর্কে চাঁদপুরের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, ‘এটা মূলত বিদায় অনুষ্ঠান ছিল না, শিক্ষার মানোন্নয়নে আলোচনা করেছি। আর যেহেতু বিদায়ী অফিসার আশরাফুল আলম মিটিংয়ে ছিলেন এবং আগামীকাল নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন, কাজেই উনি এখানে সবার কাছ থেকে বিদায় তো নিতেই পারেন।’



