ঈদ এলেই দা-ছুরির ঝনঝনানি, প্রাণ ফিরে পায় গ্রামীণ কামারশিল্প

আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে কোরবানির ঈদই হচ্ছে কামারদের আয়ের প্রধান মৌসুম।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Gazipur
কামারশালা
কামারশালা |নয়া দিগন্ত

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কামারশিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুরি, চাপাতি, বটি ও কোরবানির বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও ধার দেয়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। প্রাণ ফিরে পায় গ্রামীণ কামারশিল্প। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কামারদের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ।

স্থানীয় কামাররা জানায়, কৃষি কাজে ব্যবহৃত কাস্তে, কোদাল ও কুড়ালের কাজই বছরের অধিকাংশ সময় কেটে যেত। আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে কোরবানির ঈদই হচ্ছে কামারদের আয়ের প্রধান মৌসুম। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদুল আজহার আগে তাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ছোট ছুরি থেকে বড় চাপাতিতে শান দিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। অনেকেই পুরোনো দা-ছুরি ধার দিতে আসছেন, আবার কেউ নতুন সরঞ্জাম তৈরি করছেন। দিনরাত পরিশ্রম করেও সময়মতো সব অর্ডার সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

কামার পেশার সাথে জড়িত উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারেরশ্রীদাম চন্দ্র দাস বলেন, ‘ঈদের এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে বেশি আয়ের মৌসুম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছি। তবুও ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

অন্যদিকে সরঞ্জামাদি মেরামত করতে আসা একাধিক ক্রেতা জানায়, কোরবানির পশু জবাই ও গোশত প্রস্তুতের জন্য ভালো মানের ধারালো যন্ত্রপাতির বিকল্প নেই। তাই ঈদের আগে আগেই তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন।

সচেতন মহল বলছে, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্পের জন্য বড় আয়ের মৌসুম। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লেও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে কামারশিল্প এখনো টিকে আছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে ঘিরে এই পেশাজীবীদের কর্মব্যস্ততা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।