ধামরাইয়ে ব্যাটারি কারখানায় ডাকাতি, মালামালসহ গ্রেফতার ৩

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত আরো একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা দুটি পিকআপের মোট মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা

Location :

Dhamrai

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ব্যাটারি কারখানায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ ভ্যান এবং লুট হওয়া ব্যাটারির মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- জাহিদ হাসান (৩৫), চাঁদ মিয়া (৬২) ও শোয়েব মিয়া (৩৯)।

পুলিশ জানায়, গত ২২ মার্চ গভীর রাতে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ধামরাইয়ের একটি ব্যাটারি কারখানায় হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে বেঁধে ফেলে এবং প্রায় ৫৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারখানার মালিক মো: রুবেল ধামরাই থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার বেড়া এলাকা থেকে চাঁদ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদ মিয়া জানান, তিনি লুট হওয়া মালামাল ১৭ লাখ টাকায় কিনে ২৪ লাখ টাকায় শোয়েব মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শোয়েব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে শোয়েব মিয়ার কারখানার গুদাম থেকে লুট হওয়া ব্যাটারির কাঁচামাল গলিয়ে তৈরি ৪৯টি সিসার গোলবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব সিসার ওজন প্রায় এক হাজার ৪৪৯ কেজি, যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত আরো একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা দুটি পিকআপের মোট মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওসার সুলতান বলেন, ডাকাতির ঘটনায় পাবনার বেড়া, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরো কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।