সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মুসল্লির ঢল

জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। নির্যাতিত মুসলিমদের রক্ষায় মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে মোনাজাতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক মুসল্লি।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল
ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল

বৃষ্টি ভেজা সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লির ঢল নামে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় আয়োজিত এ জামাতে নগরের সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা।

জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। নির্যাতিত মুসলিমদের রক্ষায় মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে মোনাজাতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক মুসল্লি।

জামাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান পেশ করেন মুফতি মাওলানা জুনেদ আহমদ আনসারী। তিনি ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরে ত্যাগ, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান।

ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। জামাতে শরীক ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী,সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো:যাবের সাদেকসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ।

জেলা ও মহানগর এলাকায় মোট দুই হাজার ৭০৬টি ঈদগাহ ও মসজিদে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নগরীর হজরত শাহজালাল (রহ.) জামে মসজিদ, হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার মসজিদ, সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠ, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ এবং কালেক্টরেট জামে মসজিদেও বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে।

জেলা ও মহানগর পুলিশের তথ্যমতে, মহানগরীতে ৩৯০টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪২টি খোলা মাঠে এবং ২৪৮টি মসজিদে। জেলাজুড়ে মোট দুই হাজার ৫৫১টি জামাতের আয়োজন করা হয়।

ঈদ জামাতকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। শাহী ঈদগাহ এলাকা চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা ছিল। মোতায়েন ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মোবাইল টিম, ট্রাফিক পুলিশ, ড্রোন নজরদারি ও রুফটপ ইউনিট। নগরীর অন্য এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।