পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলার সময় জেলেদের সহায়তায় চাল বিতরণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৃত অসহায় ও প্রতিবন্ধী জেলেদের একটি বড় অংশ এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জীবিকা সঙ্কটে পড়া জেলেদের সহায়তায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকায় চাল বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণের আগেই জেলেদের তালিকা প্রস্তুতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে বাস্তব চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তালিকাভুক্ত একাধিক জেলের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জেলে পরিচয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে, প্রকৃত দরিদ্র, অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মোট ১,১০২ জন তালিকাভুক্ত কার্ডধারী জেলে থাকলেও বরাদ্দ আসে ৮৫০ জনের। প্রত্যেককে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ২৫২ জন জেলে এ সহায়তা থেকে বাদ পড়েন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বাদ পড়াদের মধ্যে প্রকৃত দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী জেলের সংখ্যাই বেশি।
২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধী জেলে আবুল কাশেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু এবার আমাকে কোনো চাল দেয়া হয়নি। পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
একই অভিযোগ জানিয়ে কচ্ছপখালী এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে রাসেল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরে সংসার চালালেও এবার তালিকা থেকে বাদ পড়েছি। অথচ জেলে না হয়েও অনেক লোক চাল পেয়েছে।’
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলে বাছাই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি কাজ করেছে। দরিদ্রদের অগ্রাধিকার দেয়ার সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘তালিকায় ১,১০২ জন জেলে থাকলেও বরাদ্দ এসেছে ৮৫০ জনের। বরাদ্দ সীমিত থাকায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে বরাদ্দ এলে বঞ্চিতদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।



