‘শহীদদের অসম্পূর্ণ মিশন সম্পন্ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব’

‘জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দল-মতের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
বক্তব্য রাখছেন মুফতি আলী হাসান উসামা
বক্তব্য রাখছেন মুফতি আলী হাসান উসামা |নয়া দিগন্ত

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি আলী হাসান উসামা। তিনি বলেন, ‘শহীদদের রক্তের প্রতি ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে তাদের অসম্পূর্ণ মিশন সম্পন্ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কে আমাদের পক্ষে থাকবে, কে বিপক্ষে যাবে কিংবা কে ক্ষমতায় গিয়ে শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে—এসব দেখার সময় নেই। শহীদদের অসম্পূর্ণ মিশন সম্পন্ন করে তবেই আমরা তৃপ্তিভোজন করব, ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (২৫ জুলাই) জামায়াতের উলামা বিভাগ ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আয়োজনে নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও উলামায়ে কেরামের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সোলায়মান আহসানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় এই সভা পরিচালিত হয়।

মুফতি উসামা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দল-মতের ঊর্ধ্বে জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’

ভবিষ্যতেও ইসলামবিরোধী ও সব ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি ও পারস্পরিক বিরোধই ইসলামী শক্তির অগ্রযাত্রার প্রধান বাধা। ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির মতো বিভাজনের রাজনীতি এখনো কার্যকর রয়েছে।’

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উলামাদের উদ্দেশে মুফতি উসামা বলেন, ‘কেবল ধর্মীয় ইস্যু নয়, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ, মানুষের জীবনযাত্রা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও আলেম সমাজকে সোচ্চার হতে হবে।’

জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে পারলে জাতীয় নেতৃত্বও তাদের হাতেই আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণ যাদের সৎ, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব মনে করে, তাদের প্রতিই আস্থা রাখে।’

মানুষের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতির কারণেই জামায়াতে ইসলামীর প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি মুসলিম সমাজকে পারস্পরিক মতভেদে সময় নষ্ট না করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, মাদকসহ সমাজের সর্বজনস্বীকৃত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সভার প্রধান অতিথি শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন মতবিরোধে রূপ না নেয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং ভবিষ্যতের যেকোনো সঙ্কট মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমির মো: আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মো: আছাদুজ্জামান সোহেল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান মিলন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার।

এছাড়া মহানগর জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খানসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।