ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটজুড়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢলের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ঢলে তলিয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র। ফলে এই পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে এ তথ্য জানিয়ে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ঢলে সাদাপাথর তলিয়ে গেছে। স্রোতও খুব বেশি। তাই সাময়িকভাবে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক। এতে সুনামগঞ্জ জেলার সাথে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতোমধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৯ সেন্টিমিটার।
যদিও বর্তমানে সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত হলে স্বল্প মেয়াদি বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, সকালে পানির স্রোত কিছুটা কম ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানিও বেড়েছে। স্থানীয় মানুষ যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তবে পাহাড়ি ঢল থামলে সবকিছুই স্বাভাবিক হবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে দু’-এক দিনের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বেশিরভাগ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া, ধলাই নদীর পানিও সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডও সতর্কতা দিয়ে বলছে, আগামী তিন দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, দেশের বিভিন্ন অংশেও সোমবার (২২ জুন) বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।



