রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট, বিপাকে কৃষকরা

আড়ৎ না খোলায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ও পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

Location :

Rajbari
কৃষকদের পেঁয়াজ কেনেনি কোনো আড়ৎ
কৃষকদের পেঁয়াজ কেনেনি কোনো আড়ৎ |নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির বহরপুর ও সোনাপুর হাটে পেঁয়াজের আড়তদারদের আকস্মিক ধর্মঘটে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) সাপ্তাহিক হাটের দিন কোনো ব্যবসায়ী আড়ৎ না খোলায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ও পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিওন (টাউন/তহসিল অফিসার) ব্যবসায়ীদের সাথে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে পেঁয়াজ বিক্রির সময় ঢলন বা থলতা নামে মণপ্রতি অতিরিক্ত দুই থেকে তিন কেজি পেঁয়াজ কৃষকদের কাছ থেকে নেয়ার প্রথা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। এরই প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দেয়। এতে সোনাপুর ও বহরপুর হাটে কোনো আড়ৎ খোলেনি।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এ প্রথা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ভোর থেকে হাটে আসা কৃষকরা পেঁয়াজসহ অন্য কাঁচামাল বিক্রি করতে না পেরে হতাশায় পড়েন।

অনেকেই পরিবহন খরচ বহন করে পণ্য নিয়ে এলেও বিক্রি করতে না পেরে সেগুলো আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

বহরপুর হাটে কৃষক ছেকেন মন্ডল বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে ফসল ফলাই, কিন্তু হাটে এনে যদি বিক্রি করতে না পারি তাহলে আমাদের বড় লোকসান হয়।’

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা সমাধানের ঘোষণা আসেনি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কৃষকদের ক্ষতি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের এ দ্বন্দ্বের প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মাহফুলউল্লা বলেন, ‘সোমবার উপজেলার সব হাটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শেই থলন প্রথা নামে কৃষকদের জিম্মি করে ওজনে বেশি নেয়া সিষ্টেম বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসন তা কার্যকর করবে।’

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই এসব অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কৃষকদের প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি—কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা চাপ যেন কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে না পারে।