ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিজ দোকানের গুদাম থেকে জুয়েল আরমান (৩১) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের মির্জারহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি স্ট্রোকে করে মারা গেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করায় এলাকায় রহস্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত জুয়েল আরমান ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইদিলপুর গ্রামের বড়বাড়ীর জহুরুল ইসলাম সওদাগরের ছোট ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও জুয়েল তার মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন। দুপুরে কর্মচারীরা মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে গেলে জুয়েলেরও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি বাড়িতে না ফেরায় তার বাবা জহুরুল ইসলাম দোকানে খোঁজ নিতে যান। দোকানের সাটার নামানো দেখে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে দোকানের পেছনের গুদামে সিলিংয়ের সঙ্গে জুয়েলের নিথর দেহ ঝুলতে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন।
তার আর্তচিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে জুয়েলকে উদ্ধার করে দ্রুত ভূজপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভূজপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: নাসিম হোসেন জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাশটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
এদিকে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যার আগে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন সম্পন্ন করে পরিবার। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই দাফন শেষ হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘যুবকটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’



