ভোলার চরফ্যাশনের সামরাজ মাছ ঘাটের প্রায় দুই কোটি টাকার ইলিশ জব্দ করেছে জেলা মৎস্য অফিসার। বুধবার (১৩ মে) রাতে মাছগুলো চরফ্যাশন থেকে ভোলা হয়ে ঢাকা নেয়ার পথে তা সাগরের বলে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, বৈধভাবে সংগৃহীত মাছ জব্দ করে তাদের নিঃস্ব করে দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছগুলো নদী থেকে আহরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রমাণ আছে উপজেলা মৎস্য বিভাগের।
এ দাবির পক্ষে তারা চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য বিভাগের দেয়া অনুমতিপত্র (স্বীকৃতি পত্র) প্রদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট ওই কাগজে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, নির্দিষ্ট তারিখে নদী থেকে আহরিত বৈধ মাছ বাজারে পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা নিয়ম মেনে নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করেছি। মৎস্য অফিস থেকে অনুমতিও নিয়েছি। তারপরও অভিযান চালিয়ে মাছ জব্দ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও প্রশ্ন উঠেছে, যদি অবৈধভাবে সাগর থেকে মাছ আহরণ হয়ে থাকে, তাহলে সাগরে অভিযান জোরদার না করে কেন সড়কে এসে ব্যবসায়ীদের ওপর এমন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে?
মৎস্য বিভাগের দেয়া অনুমতিপত্রে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ নদী থেকে আহরণ করে নির্ধারিত স্থানে পরিবহনের অনুমতি পেয়েছেন। এতে ব্যবসায়ীদের দাবি আরো জোরালো হয়েছে যে, তাদের মাছ বৈধ ছিল।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, মাছগুলো নদী থেকে ধরে আমাদের অনুমতিপত্র নিয়ে ঢাকায় বিক্রি করতে জেলেরা ভোলা হয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অভিযানের একটি টিম তাদের মাছগুলো আটকিয়ে দেয়।
অভিযান পরিচালনাকারী এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে তথ্য এসেছে মাছগুলো সাগরের। তাই আমরা মাছগুলো জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ করে দিয়েছি।
তবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টকারী লিখেছেন, কিছু মাছ এতিমখানায় দিয়ে দেড় কোটি টাকার মাছ গোপনে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মাছগুলো জব্দ করে সব মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।



