সিরাজগঞ্জের তাড়াশে টিএমএসএস নামের একটি এনজিও থেকে নেয়া ৫০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে মাত্র ২৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় মোছা: জান্নাতি খাতুন (২৫) নামের গৃহবধূকে গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার নিজ বাড়ী থেকে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।
জান্নাতি ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। জান্নাতির আব্দুর রহিম নামের একটি দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বর্তমানে জান্নাতি খাতুন ছেলেসহ তাড়াশ থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন।
গ্রেফতারের বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) থাকায় ওই গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে আসলে আমাদেরও কিছু করার নেই।’
জানা গেছে, উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বছর খানেক আগে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের এনজিওতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার পদে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি চাকরির শর্ত মোতাবেক ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। পাশাপাশি আব্দুর রাজ্জাক ওই শাখা থেকে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণও গ্রহণ করেন। এরপর আব্দুর রাজ্জাক ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের এনজিও‘র চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
এদিকে আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, ওই এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণের প্রায় ২৫ হাজার টাকা কয়েক কিস্তিতে পরিশোধ করেছি। পাশাপাশি চাকরির সময়ে আমার জামানত রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা স্ত্রীর ঋণের সাথে সমন্বয় করতে শাখা ব্যব্স্থাপককে অনুরোধ করি। কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ জামানত রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা আমার স্ত্রীর ঋণের সাথে সমন্বয় না করে আমার স্ত্রী জান্নাতির নামে আদালতে মামলা করেন।
সাক্ষরিত সাদা চেকে কত টাকা দাবি করে মামলা করেছেন এনজিও কর্তৃপক্ষ তাও জানে না।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান, ‘সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জানান, মূলত জান্নাতি খাতুনকে গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর সকালে সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।’



