ময়মনসিংহের নান্দাইলে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন শত শত শ্রমজীবী মানুষ। পেটের দায়ে ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ভোরের আলো ফুটতেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নির্মাণশ্রমিকসহ দিনমজুররা কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। অধিকাংশক্ষেত্রেই তারা ইঞ্জিনচালিত ট্রলি কিংবা অন্য অনিরাপদ যানবাহনে গাদাগাদি করে কিংবা ঝুলে কর্মস্থলে পৌঁছান। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই অতি দরিদ্র পরিবারের সদস্য। দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরির আশায় তারা কয়েক কিলোমিটার দূরের কর্মস্থলে এভাবেই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘কাজ না করলে ঘরে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে থাকবে। ভয় থাকলেও যেতে হয়। এখন জীবনের চেয়ে কাজটাই বেশি দরকার।’
প্রতিদিনই ট্রলির পেছনে বা চালকের পাশে ঝুলে শ্রমিকদের যাতায়াত করতে দেখা যায়। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সামান্য অসতর্কতা বা দুর্ঘটনায় ঝরে যেতে পারে বহু প্রাণ।
এ অবস্থায় শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং বিকল্প নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মনে করেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত বন্ধ করা সম্ভব নয়।
অভাব-অনটনের সাথে লড়াই করে নান্দাইলের এসব শ্রমিক প্রতিদিনই অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়াচ্ছেন। তাদের স্বপ্ন খুব বড় নয়—একটু স্থিতিশীল জীবন, সন্তানের শিক্ষা এবং পরিবারের মুখে হাসি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতার মধ্যে আবদ্ধ।



