রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী নগরীর চৌরঙ্গী জামে মসজিদ ও মাদরাসাকে কেন্দ্র করে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে নগরীর সি অ্যান্ড বি মোড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান মসজিদের মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আমিনুর রহমান বাচ্চু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক আদালতের নির্দেশনা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মসজিদের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে দোকানপাট, পায়খানা-পেশাবখানা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
তার দাবি, নামাজের নির্ধারিত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক দোকান নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা মসজিদের ধর্মীয় পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ, মাদরাসা ভবন ভেঙে ফেলা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন করা হয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা, মারধর এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন আমিনুর রহমান বাচ্চু।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে একাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে সাধারণ মুসল্লিদের সমর্থনে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও পরে তাদের জোরপূর্বক অপসারণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মসজিদের অভ্যন্তরে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদরাসার পবিত্রতা রক্ষা, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রোগী দেখার ব্যস্ততার কথা জানান। পরে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে মসজিদের সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদের সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল বারী বলেন, অভিযোগকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদসংলগ্ন দোকান ভেঙে ফেলার পরও সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এ কারণে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, ঘটনার সময় তিনি ইমারত কমিটির সদস্য ছিলেন। মামলাজনিত কারণে তখন কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি।



