সিলেটে হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে হামের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে এক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুরা।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ফাইল ছবি

সিলেটে হামের উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১০৩ জনে।

সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশু সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃতরা হলো তাসফিয়া, আব্দুল্লাহ ও তানভীর। তাদের বয়স আট মাস থেকে এক বছর সাত মাসের মধ্যে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৫৮ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৬৫ শিশু। চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও হামের উপসর্গে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকি সবাই শিশু। এরমধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকিরা উপসর্গে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩৫ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১২ ও হবিগঞ্জের নয়জন রয়েছে।

এদিকে, সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৫৪৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ১৮০, হবিগঞ্জের ৫৬ ও মৌলভীবাজারের ২২ জন রয়েছে।

বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি সন্দেহজনক ২৬৫ জন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৫ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯২, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১১, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে সাত, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে তিন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২৯, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে হামের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছে এক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং অনেকের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা তীব্র অপুষ্টির কারণে শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মাহবুবুল আলম বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

Topics