রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে সুরুজ কাজী (২৫) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই বাংলাদেশী এই খবর পরিবারকে জানায়।
নিহত সুরুজ মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগছাড়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, নয় মাস আগে প্রতিবেশী এলেন মাতুব্বরের ছেলে দুলু মাতুব্বরের মাধ্যমে নয় লাখ টাকার চুক্তিতে রাশিয়ায় যায় সুরুজ। সেখান ৮০ হাজার টাকায় একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। পরে চলতি মাসে দালালদের প্রলোভনে বেশি বেতনে রুশ সেনাদের সাথে ইউক্রেনের বিপক্ষে যুদ্ধে যোগ দেন। বার্বুচি হিসেবে তিনি একটি ক্যাম্পে রান্না করতেন।
সম্প্রতি সে ক্যাম্পে ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা মাইন বিস্ফোরণে সুরুজের মৃত্যু হয়। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই বাংলাদেশী প্রবাসী যুবক মোবাইলে সুরুজের পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এদিকে ঘটনার পর পলাতক অভিযুক্ত দালাল দুলু মাতুব্বর ও তার সহযোগিরা।
আদরের ভাইকে হারিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ বোন শারমিনের। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মা নুর জাহান বেগম। বাবা বাকরুদ্ধ।
নিহতের বাবা সাহাবুদ্দিন কাজী বলেন, ‘আমার বড় ছেলের এভাবে মৃত্যু হবে এটি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি দালালদের বিচার চাই। আর দ্রুত আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই।’
সুরুজের বড় বোন শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের ভাই সবাইকে কাঁদিয়ে এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি। বিদেশে যেতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু দালালচক্রের প্রলোভনে আমার ভাই বিদেশে পাড়ি জমায়। শেষমেশ যুদ্ধে যোগ দিয়ে মৃত্যু হয়েছে। সরকারের কাছে আকুতি ও মিনতি করছি আমার ভাইয়ের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করুক।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, ‘রাশিয়ায় যুদ্ধে যুবক সুরুজ কাজী নিহতের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’



