কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১২।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রাজশাহী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার রাজীব মিস্ত্রি উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা গাজী মিস্ত্রির ছেলে।
কুষ্টিয়া সিপিসি-১, র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার রাত সাড়ে ১১টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে র্যাব-১২, সিপিসি-১ (কুষ্টিয়া) ও র্যাব-৫ (সদর) একটি যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন থানা রোড নাসিম হেয়ার ড্রেসারের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, একই হত্যা মামলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তারা দু’জনই ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ইসলামপুর গ্রামের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনকে (১৬) গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে জাহাঙ্গীর নামে এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর চালায় এলাকাবাসী। এ সময় শামীম ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এ ঘটনায় পীর শামীমকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একইদিন বিকেল ৪টায় তিনি মারা যান।
নিহত শামীম জাহাঙ্গীর ওই দরবার শরীফের প্রধান ছিলেন। এ সময় পীরের তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
পরদিন ১২ এপ্রিল দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে শামীমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০-২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তিন আসামিকে গ্রেফতার করল দৌলতপুর থানা পুলিশ।



