কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদী থেকে বালু খেকোদের অবৈধ বালু উত্তোলনে তৈরি হওয়া গর্তের চোরাবালিতে আটকা পড়ে আদর দাশ (১৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সমবয়সী শিশুদের সাথে নদীতে গোসল করতে গিয়ে চোরাবালির গর্তে ডুবে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার বাঁশঘাটা স্টেশন সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আদর দাশ চকরিয়া পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের খোদারকুম এলাকার প্রদীপ দাশের ছেলে। সে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল বলে জানা যায়।
স্থানীয় লোকজন বলেন, সোমবার দুপুরে সমবয়সী আত্মীয় শিশুদের সাথে মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নামে আদর। একপর্যায়ে সে নদীতে তলিয়ে যায় সে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীতে অসংখ্য চোরা গর্ত তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে মাতামুহুরী নদীর চোরাবালিতে আটকা পড়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের অধিকাংশই শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থী। নদীতে পানির গভীরতা কম হলেও চোরাবালিতে আটকা পড়ে এসব শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
তারা জানান, গত ৮ মে মাতামুহুরী নদী পায়ে হেঁটে পার হতে গিয়ে চোরাবালিতে আটকা পড়ে নাদিম নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। গত দুই মাস আগে চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা মৌলভীরচর এলাকায় মাতামুহুরী সেতু পয়েন্টে গোসল করতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়।
আদরকে নদী থেকে উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আদরসহ কয়েকজন গোসল করতে নামার সময় আমি সেখানে ছিলাম। সে হাঁটুপানিতে গোসল করছিল। তবে সেখানেই হঠাৎ তাকে তলিয়ে যেতে দেখি। প্রথমে আমি মনে করেছিলাম, সে ডুব দিচ্ছে। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, সে ডুবে যাচ্ছে। তখন আমি চিৎকার করে আশপাশের আরো কয়েকজনকে নিয়ে নদীতে নেমে তাকে উদ্ধার করি। ততক্ষণে সে প্রচুর পানি খেয়ে ফেলেছিল। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
চকরিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার মুজিবুল হক বলেন, ‘অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে মাতামুহুরী নদীজুড়ে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তগুলোতে পরে পলি জমলেও শক্ত হয় না, নরম থেকে যায়। পরে সেসব গর্তে কেউ পা দিলে আটকে গিয়ে ডুবে যায়। কিশোর আদর দাশও সেই রকম গর্তে আটকে ডুবে যায়।’
নিহত আদর দাশের বাবা প্রদীপ দাশ বলেন, ‘দুই মাস আগে আমি প্রবাস থেকে দেশে আসি। কয়েক দিনের মধ্যে আমি বিদেশের কর্মক্ষেত্রে ফিরব। এ উপলক্ষে আত্মীয়স্বজনরা আমার বাড়িতে এসেছিলেন। সমবয়সী আত্মীয় শিশুদের নিয়ে আদর মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। সেখানে নদীর গর্তে পড়ে সে মারা যায়।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, নিহত আদর দাশের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



