মানিকগঞ্জের ঘিওর ও সদর উপজেলায় পৌরসভার বিশেষ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রিন কোয়ালিশনের সভা ও অচাষকৃত উদ্ভিদ রক্ষায় বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রদর্শনী।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী আয়োজনে আন্ধারমানিকস্থ এএলটি সেন্টারটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও টেকসই কৃষির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, একসময় গ্রামীণ পরিবারের পুষ্টির বড় অংশই আসতো বাড়ির আশপাশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মানো বিভিন্ন শাক-লতা-গুল্ম থেকে। কিন্তু বর্তমানে অধিক ফলন ও মুনাফার লক্ষ্যে অনিয়ন্ত্রিত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কৃষিকে করে তুলছে বিষাক্ত। এতে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রাকৃতিক ভাণ্ডার। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
জেলা গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা জৈব কৃষির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানবস্বাস্থ্য রক্ষায় বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হলে কৃষিতে রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে জৈব পদ্ধতির দিকে ফিরে যাওয়া জরুরি। তারা উল্লেখ করেন, ডুমুর, কলমি, বথুয়া ও গিমা শাকের মতো অচাষকৃত উদ্ভিদ শুধু পুষ্টিকরই নয়, অনেক ক্ষেত্রে ঔষধি গুণেও সমৃদ্ধ। এসব উদ্ভিদের পুষ্টিগুণ ও ভেষজ ব্যবহার নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
সভার পাশাপাশি আয়োজিত অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শনীতে গ্রামীণ নারীদের সংগ্রহ করা ৬০ প্রকার বিভিন্ন শাক ও ঔষধি উদ্ভিদ স্থান পায়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। একইসাথে এসব উদ্ভিদের গুণাগুণ, ব্যবহার ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয় আমন চালের ভাত, শত পদের ভর্তা, নানা ধরনের দেশীয় তরকারি ও নদীর তাজা মাছ, যা গ্রামীণ খাদ্য ঐতিহ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
এছাড়া অংশগ্রহণকারী কৃষাণীদের মাঝে পারস্পরিক দেশীয় ফসলের বীজ বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে।
দিন শেষে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, লোকায়ত জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করে বিষমুক্ত কৃষি চর্চা এবং অচাষকৃত উদ্ভিদের বৈচিত্র্য সংরক্ষণই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পারে।
আয়োজক সংস্থা বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, অধ্যাপক মাইনুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, সাবেক শিক্ষক নেতা মীর্জা ইস্কান্দার, কৃষিবিদ মনিরুল হক, জ্যোতিষ চন্দ্র সরকার, কবি কল্পনা সুলতানা, কবি আনিসুর রহমান খান আলিনুর ও গীনি আলম প্রমুখ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।



