পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

দানবাক্সগুলো খোলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

মো: আল আমিন, কিশোরগঞ্জ

Location :

Kishoreganj
দানবাক্স খুলছেন জেলা প্রশাসক
দানবাক্স খুলছেন জেলা প্রশাসক |নয়া দিগন্ত

ছয় মাস পর খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্স। দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে বড় আকারের বস্তায় ৪৩ বস্তা টাকা। বর্তমানে সেগুলোর গণনা চলছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: শরিফুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ এবং কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়াসহ অনেকে।

জেলা শহরের ঐতিহাসিক এ মসজিদে ১৩টি দানবাক্স রয়েছে, যেগুলো সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। এবার দেরিতে দানবাক্স খোলা হওয়ায় বাক্সগুলোতে টাকা উপচে পড়ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গণনা শেষে এবারের টাকার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সারাদিন টাকা গণনার কাজ তদারকি করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ওই দিন তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়। তখন ৩৫ বস্তায় পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮ টাকা।

তারও আগে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৩২ বস্তা টাকা। গণনা করে দেখা যায়, সেখানে ছিল ১২ কোটি নয় লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়া পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা। তখন চার মাস ১৮ দিনে এ পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল দানবাক্সগুলোতে।

পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন পাগলা মসজিদসংলগ্ন মাদরাসার ১১০ জন, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদরাসার ২৫০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় অর্ধশত সদস্য টাকা গণনায় সহযোগিতা করছেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে গণনার কাজ চলছে।

তিনি আরো জানান, গণনা শেষে টাকা রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হবে।

জানা গেছে, পাগলা মসজিদের টাকায় কিশোরগঞ্জে মসজিদকেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট। সেখানে ইবাদতের পাশাপাশি আশ্রয়হীন ও এতিম শিশুদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা, আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া, আইটি সেকশনসহ আরো নানা সুবিধা থাকবে।

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের বর্তমান আয়তন পাঁচ দশমিক পাঁচ একর। ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরো কিছু জমি অধিগ্রহণ বা কেনা হবে। বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে মানুষের দানের ১০০ কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠান নকশা জমা দিয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং এরপরই কাজ শুরু হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা, টাকা বস্তায় ভরা, গণনা এবং গণনা শেষে ব্যাংকে নিরাপদে পৌঁছে দেয়াসহ পুরো প্রক্রিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’

তিনি জানান, এ কাজে তিনি নিজেও সরাসরি তদারকি করছেন।