মাদারীপুরের কালকিনিতে ভুল চিকিৎসায় তন্নী খান (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা সড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালেও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত তন্নী খান ডাসার উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া খানবাড়ীর জিয়া উদ্দিন খানের মেয়ে। তার স্বামী আল আমিন হাওলাদার পেশায় প্রাইভেটকার চালক। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ছিল প্রায় দুই বছর। তিনি এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।
স্বজনরা জানান, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টার দিকে প্রসবজনিত সমস্যার কারণে তন্নী খানকে কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটা এলাকার নূর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টার দিকে ডাক্তার ইশরাত জাহান ঐশি ও হিমেল মাহমুদ তার অস্ত্রোপচার করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর নাড়ি ভুলভাবে কেটে ফেলা হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের দাবি, বরিশাল মেডিক্যালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভুলভাবে নাড়ি কাটার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার বিকেলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ স্বজনরা নূর ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পর হাসপাতালটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে স্বজনরা সড়ক অবরোধ করেছিল। তারা লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



