সিলেটের জৈন্তাপুরে অবস্থিত ১৫০০-১৬০০ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক জৈন্তা রাজবাড়িকে ঘিরে যাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, “জৈন্তা রাজবাড়ি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। আগামী অর্থবছরেই এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে যাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সঙ্গে জৈন্তাপুর পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজও এগিয়ে নেয়া হবে।”
সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে জৈন্তাপুর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত জৈন্তা রাজবাড়ি মোগল আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতিহাসবিদদের মতে, একসময় জৈন্তা রাজ্যের বিস্তৃতি ভারতের মেঘালয় থেকে সিলেটের কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও সদর উপজেলা পর্যন্ত ছিল। দেব বংশের সর্বশেষ রাজা জয়ন্ত রায়ের কন্যা জয়ন্তীর নামানুসারে রাজ্যটির নামকরণ ‘জৈন্তা’ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বর্তমানে রাজবাড়িতে মোগল আমলের স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ, প্রাচীর, কূপ, নরবলি দেওয়ার স্থান এবং দেয়ালে অঙ্কিত একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্মের অস্তিত্ব রয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিগগিরই একটি পর্যটন সার্ভিস সেন্টার চালু করা হবে। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিদেশগামী কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বল্প খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেকেই সঠিক তথ্য ও প্রশিক্ষণের অভাবে প্রতারণার শিকার হন। এ সমস্যা নিরসনে বিদেশগামীদের জন্য বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হবে।
সভায় মন্ত্রী উপজেলা সদরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) উসমান গনি, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তাহির আলী কলাই, আব্দুস শুকুর, জৈন্তিয়া জনদাবী পরিষদের সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সুহেল, নিজাপাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস শুকুর, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আহাদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবুল হাসিম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমদ, ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন, হারুনুর রশিদ, হুমায়ুন কবীর খান, আব্দুর রকিব প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিদর্শন করেন।



