মালয়েশিয়ায় কাজ হারিয়ে দেশে ফিরলেন ৮৩ হাজার বাংলাদেশী

মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জটিলতায় বৈধতা হারিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দিতে চালু করা হয় বিশেষ ক্ষমার কর্মসূচি Repatriate 2.0, এই কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান |নয়া দিগন্ত

মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জটিলতায় বৈধতা হারিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দিতে চালু করা হয় বিশেষ ক্ষমার কর্মসূচি Repatriate 2.0, এই কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ২ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ জন অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশী অভিবাসী রয়েছেন প্রায় ৮৩ হাজার।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশী নাগরিকরা।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন বিদেশী নাগরিক নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ এরইমধ্যে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেছেন। কর্মসূচিটি চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে অভিবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তারা স্বেচ্ছায় নিবন্ধন করে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন, বলেন তিনি।

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বাধিক ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশী নাগরিকরা। এছাড়া নেপাল, মিয়ানমার, ভারতসহ আরো বিভিন্ন দেশের নাগরিক এই উদ্যোগের আওতায় দেশে ফিরেছেন।

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ হাজার ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে অবৈধ প্রবাসীদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শুধু প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চালু করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে।