গৌরীপুরে নির্মাণাধীন সেতু উদ্বোধনের আগেই ধস

ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে গিয়ে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে, ভেঙে গেছে ইটের সলিং। নিরাপত্তা বেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত—যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নির্মাণাধীন সেতু
নির্মাণাধীন সেতু |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একটি নির্মাণাধীন সেতু যেন শুরুতেই ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্বোধনের আগেই সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে ধস—এ যেন পরিকল্পনাহীনতা, অবহেলা আর দায়সারাভাবে কাজ করার নগ্ন উদাহরণ।

উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর–বলুহা সড়কে নির্মাণাধীন ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটি বাস্তবে এখন জনভোগান্তির নতুন কারণ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২২–২৩ অর্থবছরের প্রকল্পে প্রায় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু হলেও নির্ধারিত সময় বহু আগেই পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কাজ শেষ তো দূরের কথা—এখনই ধসে পড়ছে সংযোগ সড়ক।

সরেজমিন চিত্র আরো ভয়াবহ। ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে গিয়ে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে, ভেঙে গেছে ইটের সলিং। নিরাপত্তা বেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত—যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে বর্ষার পূর্ণ মৌসুমে কী হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এ প্রকল্প ঘিরে অনিয়মের অভিযোগও কম নয়। কাজের সাইনবোর্ড নেই—যেখানে ব্যয়, সময়সীমা, ঠিকাদারের নাম উল্লেখ থাকার কথা। নেই কোনো সাইট অফিস, শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম সুবিধা, এমনকি কাজের মান নিয়ন্ত্রণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও নেই। সব মিলিয়ে এটি যেন এক ‘নিয়মভঙ্গের প্রকল্প’।

স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র। তাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। এখন তার ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে—ধস আরো বাড়লে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়বে।

রাজনৈতিক মহল থেকেও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তদারকির চরম ঘাটতি রয়েছে। তিনি দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অন্যদিকে ঠিকাদারের সাফাই—বর্ষা ও মাটির সংকট। তবে বাস্তবতা বলছে, সময়মতো কাজ শেষ না করা, নিম্নমানের নির্মাণ এবং তদারকির অভাব—এসবের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অবশ্য কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কাজ সন্তোষজনক না হলে বিল বন্ধ রাখা, এমনকি কার্যাদেশ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এতদিন কী করা হচ্ছিল?

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়া এই সেতু শুধু একটি প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়—এটি সরকারি অর্থের অপচয়, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহিহীনতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়—দায়ীদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়, নাকি সবকিছু আগের মতোই ধামাচাপা পড়ে যায়।