সিলেটে থামছে না হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ৩৬ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো তিন শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এ নিয়ে হাম উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ জনে।
শনিবার (৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। তবে ওসমানী ও শামসুদ্দিন হাসপাতাল সূত্রে গত ৩৬ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যায় আট মাস বয়সী শিশু সাইফা। সে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া নয় মাস বয়সী আকরামুল হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা এবং একই হাসপাতালে শুক্রবার (৮ মে) রাত ৮টায় মারা যাওয়া তিন মাস বয়সী রাহিম আলী সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দা।
এদিকে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও হাম উপসর্গে আরো ২৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪২। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৩ জন (রুবেলা আক্রান্ত দু’জন), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭১ জন ও সিলেট জেলায় ৪২ জন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ২৯ জন শিশু সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ২৪৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১০৬ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নয়জন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারজন, আল হারামাইন হাসপাতালে দু’জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাতজন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দু’জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে দু’জন, পার্কভিউ হাসপাতালে দু’জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওসমানী হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা: শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। দু’টি হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম ও হাম উপসর্গের চিকিৎসা চলছে। হাম থেকে শিশুকে রক্ষায় হামের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।



