ফটিকছড়িতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ২০, এলাকায় আতঙ্ক

পাগলা কুকুরটি প্রথমে আমার ভাগ্নি মারিয়াসহ এলাকায় প্রায় নয়জনকে কামড়ায়। এরপর এটি দ্রুত পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কামড়ের আতঙ্কে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঘরের বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Fatikchhari
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি ‘পাগলা কুকুরের’ আকস্মিক আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

৩১ মে থেকে ২ জুনের মধ্যে উপজেলার দৌলতপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুকুরের এই তাণ্ডবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে একটি পাগলা কুকুর উপজেলার দৌলতপুর, ইমামনগর, দক্ষিণ পাইন্দং ও ফরহাদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু।

আহতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলো— ইমামনগরের জান্নাতুল ইশফা (৮) ও আনিশা (১৩), দৌলতপুরের সামিরা (৮) ও মোস্তাকিম (৮), দক্ষিণ পাইন্দংয়ের মোহাম্মদ (১০), ফরহাদাবাদের উম্মে আয়েশা (৫৫), মাহরুক, সাগর ও আবিদ। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন জনি বলেন, পাগলা কুকুরটি প্রথমে আমার ভাগ্নি মারিয়াসহ এলাকায় প্রায় নয়জনকে কামড়ায়। এরপর এটি দ্রুত পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কামড়ের আতঙ্কে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঘরের বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: কামরুল হাসান জানান, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসার পর জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জরুরি ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে যাদের ক্ষত অত্যন্ত গুরুতর, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিআইটিআইডি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরটি আটক বা ভ্যাকসিনেট করার জোর দাবি জানিয়েছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী।