জামায়াত এমন এক মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, মত পথ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে; মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তিনি সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে ভাষানটেক থানা জামায়াত আয়োজিত ভাষানটেক কাঁচা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে আর্থিক সহোযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
থানা আমির ডা: আহসান হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত ও জামায়াত মনোনীত ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো: আনোয়ার হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন ভাষানটেক থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ আবদুর রহিম মোহাম্মদ ও জামায়াত নেতা মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু ভাষানটেক বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের পর সরকার বা সিটি করপোরেশনের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। কিন্তু জামায়াত একটি কল্যাণধর্মী ও গণমুখী রাজনৈতিক দল হওয়ায় আমরা অগ্নিদূর্গত ব্যবসায়ীদের জন্য সামান্য হাদিয়া নিয়ে হাজির হয়েছি। যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। মূলত, গণমানুষের কল্যাণকামীতাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ ও উদ্দেশ্য। আমরা কর্মীদের কাছ থেকে অর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করি। আমাদের কাছে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা বলে নেই বরং সব সময়ই আমরা আমরা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত।
তিনি অগ্নিদূর্গত ব্যবসায়িদের দুর্দশা লাঘবে সরকার, সিটি করপোরেশন সহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বা উদ্দেশ্যপ্রণোগিতভাবেও হতে পারে। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রাথমিকভাবে যা যানা গেছে, তাতে এটি দুর্ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়। মূলত, বিপদাপদ আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে পরীক্ষা। তাই সবর ও সালাতের মাধ্যমে আমাদেরকে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কোনো অবস্থায় ধৈর্য্যচ্যুত হওয়া যাবে না। আল্লাহ চাইলে যেকোনোভাবেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেন। এমনকি অতিরিক্ত প্রত্যাশা করার সুযোগ আছে।
তিনি জামায়াতের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত ব্যক্তির আত্মগঠন, চত্রিত্র গঠন; পবিবার ও সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এমন এক শান্তির সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, যে সমাজ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বৈষম্যমুক্ত। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।



