ফরিদপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুহত্যা, গ্রেফতার ৩

নিহত আইরিন আক্তার কবিতা (৭) ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা বিশ্বাসের মেয়ে। সে বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Faridpur

ফরিদপুরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে এক যুবকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রধান অভিযুক্ত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত আইরিন আক্তার কবিতা (৭) ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা বিশ্বাসের মেয়ে। সে বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় কবিতা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত ইসরাফিল (২২) গেরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সে মাদক গ্রহণের পর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পাশের নাসিমা বেগম নামের এক নারীর বাড়ির টয়লেট ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। ঘটনার চার দিন পর ২৮ এপ্রিল টয়লেট ট্যাংকি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে নাসিমা বেগম ঢাকনা খুলে লাশটি দেখতে পান।

পুলিশ জানায়, হত্যার দায় নিজের পরিবারের ওপর আসতে পারে- এমন ভয়ে নাসিমা তার দুই ছেলে আমিন ও রহমানকে নিয়ে লাশটি সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন। তারা লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদূরে একটি কলাবাগানে ফেলে আসেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা লাশটি দেখে পুলিশে খবর দেন।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইসরাফিলের পাশাপাশি লাশ গুমের অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফরিদপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয় । সন্দেহভাজন হিসেবে ইসরাফিলকে আটকের পর সে একাই শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া লাশ গুম করায় লাশ গুমের অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।